Tuesday, May 29, 2018

জীবনের লক্ষ্য ....

তোমার জীবনের লক্ষ্য কি ? সদ্য এস.এস.সি বা এইচ এসসিতে গোল্ডেন জি.পি.এ পাওয়া কোন স্টুডেন্টকে এই প্রশ্ন করলে কি উত্তর পাওয়া যাবে তা আমাদের মুখস্থ ... ডাক্তার, ইন্জিনিয়া, বিসিএস ক্যাডার,  ব্যাংকার, ্ পাইলট, ব্লা ব্লা ব্লা...... । 

কিন্তু কেউ বলে না ..........রাজনীতিবিদ হব, পুলিশ হব , সিনেমার নায়ক হব, বিজ্ঞানী বা ব্যবসায়ী বা  উদ্যোক্তা হব  ।

কারণটা হয়ত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি । যে সকল পেশার প্রতি সমাজ সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে মেধাবীরা সেই পেশাকেই বেছে নেয় ।  কিন্তু একজন  মেধাবীর চিন্তা কেন এতটা সাধারণ হবে, সে তো অসাধারণ মানুষ তার চিন্তা-ভাবনাগুলোও হতে হবে অসাধারণ । সে তো চাইলেই নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে এবং সমাজকে দিতে পারে এমন অনেক কিছু যেটা করা বা ভাবা অন্য করো জন্য কঠিন । 

মেধাবীরা যে সকল প্রফেশন বাছাই করতে পারে ( নিজের এবং রাষ্ট্রের কল্যানের জন্য ):

১. রাজনীতি : ছি একজন মেধাবী রাজনীতি করবে । ভাল মানুষ কি রাজনীতি করে । কম শিক্ষিত, সন্ত্রাসী ও গডফাদাররাই রাজনীতি করে । একজন উচ্চশিক্ষিত ছেলের জন্য রাজনীতি নয় । তুমি বড় চাকরী কর... সুখী হও ।  ভাল কথা কিন্তু রাজনীতি পেশাটা কি খারাপ । যারা রাজনীতি করছেন তার কিছু বা বেশীরভাগ রাজনীবিদ হয়ত অসৎ । কিন্তু প্রফেশন টা তো মহৎ । 
মেধাবী এবং সৎ লোক যদি রাজনীতিতে আসে তাহলেই রাজনীতির উন্নয়ন হবে । 

একজন মেধাবীকে যখন প্রশ্ন করা হয় কেন ডাক্তার হবে .... উত্তর আসে .....ডাক্তার হয়ে মানবসেবা...ও সমাজসেবা করব । কিন্তু মানবসেবাটাই যদি আসল লক্ষ্য হয় সবচাইতে ভাল প্রফেশন হল রাজনীতি । একজন ডাক্তার সেবা করে কয়েক হাজার মানুষের কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ সেবা করতে পারে কোটি কোটি মানুষকে ।

শত শত হাসপাতাল করতে পারে, দেশের মানুষকে সঠিক পথে চালিত করে সঠিক দিক নির্দে
শনা দিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে পারে,  সমাজ থেকে বেকারত্ব দারিদ্র দূর করতে পারে । একজন মেধাবী জ্ঞানী, দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ দেশকে শত বছর এগিয়ে দিতে পারে । যার উদাহরণ মালয়েশিয়ার মহাতির মোহাম্মদ , সিংগাপুরের মি. লি ।  মাত্র একজন রাজনীতিবিদ দরিদ্রসীমার নিচে থাকা একটি জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক সিংহে পরিণত করেছে , জাতিকে নিয়ে গিয়েছেন উন্নতির চরম শিখরে ।

আমাদের মেধাবী ছেলেরা রাজনীতিতে আসলে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হবে । সততা ও দেশপ্রেমে উজ্বীবীিত মেধাবীরা রাজনীতি করলে আমরা অল্প শিক্ষিত ,অশিক্ষিত  রাজনীতিবিদদের হাত থেকে মুক্তি পেতাম ।  মূর্খ
 মানুষের পরিবর্তে জ্ঞানী মানুষরাই সামনে থেকে আমাদেরকে দিক নির্দেশনা দিতে পারত । সমাজ এবং রাষ্ট্রের প্রত্যেক ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটত ।


ঠিক তেমনি সৎ মেধাবীরা পুলিশে আসলে দুর্নিতী বন্ধ হত । সিনেমার নায়ক হলে আমারা সার পৃথিবীতে আমাদের সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে পারি।

মোট কথা হল মেধাবীদের সেই প্রফেনেই আসা উচিৎ যেই পেশাগুলি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ
। তাতে সমাজ সুন্দর ও  ‍দুর্নিতীমুক্ত হবে । আমরা মেধাবীদের দিক নির্দেশনার উপর ভর করে উন্নতির চরম শিখরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারি । 

এজন্য প্রয়োজন পাঠ্যপুস্তকে এই পেশাগুলো সম্পর্কে পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী করা এবং শিশুদেরকে রাজনীতিবিদ, পুলিশ, ব্যবসায়ী , উদ্যোক্ত, শিল্পি ইত্যাদি হতে উদ্ভুদ্ধ করা পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক সাপোর্ট
 । 

স্বপ্ন দেখি ভবিষ্যতে আমাদের দেশের ছেলেরা এইম ইন লাইফ রচনায় লিখবে ........রাজনীতি, ব্যবসায়ী , উদ্যোক্তা.......... ।